বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭
বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা কার্তিক ১৪২৪
সর্বশেষ
 
 
ধর্ষণ : নূরিতা নুসরাত খন্দকার
প্রকাশ: ০৪:৪২ pm ০২-০৬-২০১৫ হালনাগাদ: ০৪:৪২ pm ০২-০৬-২০১৫
 
 
 


কেউ আছে?
না, এখানে কেউ নেই।
তবে শুনলাম কারো পায়ের আওয়াজ?
ভুল শুনেছ। ওটা শুকনো ঝরা পাতা ছিল।
তবে যে দেখলাম একটা কি যেন ছায়ার মত?
কিছুই দেখনি। ওটা ছিল একটা দমকা বাতাস।
না, না। এ হতেই পারে না, আমি ঠিক দেখেছি একটা হাত।
আহ বিরক্ত করোনা। চলে যাও। ওটা কিছুই ছিল না, আমি বলছি।
না তুমি আমাকে ভুল বোঝাতে চাইছ। তুমি কে সেটা বল। চেনা চেনা লাগছে।
তুমি বিদেয় হও এখুনি। আর কোনও প্রশেনের উত্তর আমি দেব না তোমায়।
হ্যাঁ আমি ঠিক চিনেছি। তুমি ধর্ষক দলের একজন।
এখানে কি চাই তোমার? লজ্জা করছে না তোমার? এখানে কি চাও? যাও চলে যাও।
না। যাব না। একটু জল দেবে? আমি জল খেতে চাই।
আমারি হাতে জল চাইছ? তোমার কি কোনও লজ্জা নেই?
লজ্জা যা ছিল সবই কেড়ে নিয়েছ। তোমার শরীরের পিপাসা মিটিয়েছ। এবার আমার জল পিপাসা মেটাও। শরীর চাইছি না তো। জল চাইছি শুধু।
আচ্ছা তুমি কেমন মেয়ে? পুলিশের কাছে যাচ্ছ না কেন? শুনেছি এখনও পুলিশের খাতায় আমাদের নামে কোন রিপোর্ট ওঠেনি! তুমি তো এখানে না এসে থানায় যেতে পারতে! আর তাছাড়া জানলে কি করে এখানে আমি গোপনে আছি?
আমাকে কি এক গ্লাস জল দিবে? জল খেয়ে তোমার প্রশ্নের উত্তর দেই?
আচ্ছা ভেতরে আসো।
না। ভেতরে যাব না। দরজা খুলতে হবে না। জানালা দিয়েই দাও।
অপেক্ষা কর। বেশি পানি দিতে পারব না। যা আছে আমার সারারাত লাগবে। এক গ্লাসই পাবে।
না বেশি লাগবে না। এক গ্লাস হলে আপাতত চলবে।
এই নাও। সেকি তোমার হাতের রক্তের দাগ এখনও লেগে আছে! তুমি কোন ওষুধের দোকানেও যাওনি?
খামচির দাগ দেখে তুমি গ্লাস ফেলে দিলে! এখন আমি খাব কি? পিপাসায় যে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। ও মা গো। খুব পিপাসা পেয়েছে।
দাঁড়াও আমি এনে দিচ্ছি আরও এক গ্লাস।
তুমি তো এক গ্লাসই বরাদ্দ রেখেছিলে।
ঠিক আছে আমি চালিয়ে নেব। অপেক্ষা কর।
ভগবান তোমার মঙ্গল করুক।
কি বললে! তুমি হিন্দু আমি জানতাম না! তুমি আমার জন্য তোমার ভগবানের কাছে মঙ্গল প্রার্থনা করলে! সেও কি সম্ভব?
কেন নয়। এখন তো তুমি আমার তৃষ্ণা মেটালে। তোমার আমার মধ্যে পার্থক্য কি জানো?
হ্যাঁ জানি। আমি ধর্ষক। তুমি... তুমি ধর্ষিতা।
না ভুল বললে, আমি কেন ধর্ষিতা হতে যাব।
কি বলছ? না তুমি সত্যি কি বলতে এসেছ আমাকে এবার বলতো।
আমি ধর্ষিতা তোমাদের মত ধর্ষকের চোখে, আর মুখস্ত সমাজের চোখে। আসলে কাল বিকেলে তোমরা আমাকে ধর্ষণ করনি। করেছ তোমাদের নিজেদের।
মানে? কি বলছ তুমি? আমি নিজেই তোমাকে রেপ করেছি। তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তোমার মুখে কাপড় গুঁজে, হাত পা বেঁধে... ও খোদা আমি এসব কি বলছি। যাও চলে যাও এখান থেকে চলে যাও। নইলে বলে দিচ্ছি আবারও তোমার একি দশা করব কিন্তু।
তা তুমি করতেই পার। তোমার যে পৌরুষ, তার জৌলুশ কেবল জোর করে ধরে আনা হাত পা বাঁধা অসহায় মেয়েদের দেখানোর জন্য।
কি বললে। এত বড় স্পর্ধা তোমার?
স্পর্ধা! ছিঃ কি যে বলছ! আমার কি ওসব মানায়? ওসব অলঙ্কার তোমার জন্য নিবেদিত।
ভনিতা না করে বল কেন এসেছ?
ভনিতা করছি কোথায়? আমি তো স্পষ্টই বলছি।
তোমার বাড়ির লোকেরা কোথায়? তাদের কি ঐ ঝোপে লুকিয়ে থাকতে বলে তুমি এই পোড়া বাড়িতে এসেছ? আমাকে ধরিয়ে দেবে ভেবেছ? ওত সহজ নয়। জানো তো আমার কাছে অস্ত্র থাকে?
জানি তোমার একটা পিস্তল আছে। গতকাল তো ওটাই দেখিয়ে আমাকে ধমক দিয়েছিলে। তারপর...
হ্যাঁ। তারপর আমি তোমার মুখে কাপড় গুঁজে হাত পা বেঁধে পিকআপ ভ্যানে তুলেছিলাম। তারপর নদীর ধারে পাটখেতে নিয়েছিলাম। তারপর তোমার সারা শরীরের কাপড় ছিঁড়ে দিয়েছিলাম। এখনও তোমার শরীর অর্ধ নগ্ন। এ অবস্থায় যে রাস্তা দিয়ে এলে তোমার লজ্জা করেনি। মরে যেতে ইচ্ছে করেনি? কোথায় তোমার বাড়ির লোকজন ডাকো এখুনি।
আমার সাথে কেউ নেই। আমি একাই এসেছি। আমি তো বাড়ি ফিরিনি। ওরা হয়তো এখন আমাকে খুঁজতে খুঁজতে থানা পুলিশ করেছে।
কেন বাড়ি ফেরনি? তুমি তো এখানে না এসে বাড়ি ফিরতে পারতে।
পারতাম। কিন্তু ফিরিনি।
কিন্তু কেন সেটাই তো জানতে চাচ্ছি? দেখ আমার মাথা গরম করবে না বলে দিচ্ছি।
তোমার মাথা গরম কি ঠাণ্ডা তা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। আমি ফিরিনি কারণ আমার মা অসুস্থ। বাবা নেই। পাঁচ বছর আগে মরে গেছে। ভাই একটা ছোট্ট। ক্লাস ফাইভে পড়ে। টিউশনির টাকা পেয়ে মায়ের জন্য যে ওষুধ কিনে বাড়ি ফিরছিলাম সেটা তোমরা ফেলে দিয়েছ। আমি বাসায় ফিরিনি এটা এখন মায়ের দুশ্চিন্তার কারণ। কিন্তু ফিরলে আমি মায়ের মৃত্যুর কারণও হতে পারি। তাই ফিরনি। আমার ঘরের খরচ এতদিন আমি নিজেই চালিয়ে এসেছি। এখন কিভাবে কি করব আমি ভেবে পাচ্ছি না। আমি তোমার কাছে এসেছি তোমার ঐ অস্ত্রটার জন্য।
মানে? ওটা দিয়ে তোমার কি কাজ? আর তুমি জানো তোমার মা অসুস্থ তাহলে বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়াও। কেউ কিছুই টের পাবে না। তোমার মা অসুস্থ যাও বাড়ি যাও। তাকে আর টেনশন দিও না।
বাঃ তোমার অনেক চিন্তা হচ্ছে আমার মাকে নিয়ে !
চুপ একদম চুপ। কি বলতে চাইছ? মোটেও আমার কাউকে নিয়ে কোন চিন্তা হচ্ছে না।
তোমার ঐ অস্ত্রটা আমাকে দেবে?
কেন আমাকে গুলি করবে?
না। নিজেকে।
কেন?
কারণ আমার আর বাড়ি ফেরা হবে না। জানো আমার খুব ইচ্ছে ছিল। আমার একটা বিয়ে হবে। সুন্দর একটা বাসর হবে। আমি মন দিয়ে সংসার করব। কিন্তু এই যে দেখ আমার সারা গায়ে কামড় আর রক্তের ছোপ। এই দেখ আমার নাভি এখানে এমন ভাবে খামচির দাগ বসিয়েছ এখানে আর কেউ কোনোদিন আদর করে ছুঁয়ে দেখবে না। অথচ এখানে কত পুলকের কোমল ঢেউ জমে ছিল। আর আমার যোনি, সেখানে সব ইচ্ছেরা এক্তরে আত্মহতয়া করেছে। তুমি বল আমি বেঁচে থেকে কি করব? মা আর ভাইয়ের দেখাশোনা করব? তারজন্য আমাকে হাসপাতালে যেতে হবে। লোকে জেনে যাবে। আমি এখন আধ মরা। তোমার ঐ অস্ত্রটা দিয়ে আমাকে পুরোই মেরে ফেল। নইলে তুমি তোমার পৌরুষ এর জৌলুশ আবার দেখাতে পার। আমি এখন সম্পূর্ণ অসহায়। একটি টু শব্দ করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি খুব অসহায় এখন। সত্যি অসহায়। আবার আমাকে রেপ কর প্লীজ।
এই চুপ কর। একদম একটা কথাও বলবে না। খুব আমাকে কথা শোনাচ্ছ তাই না। আমি অসহায় মেয়েদের পৌরুষের জৌলুশ দেখাই? আমি কাপুরুষ?
কাপুরুষ না হলে ধর্ষণ করে নিজেকে কাপুরুষের মত লুকিয়ে রেখেছ কেন? এই পোড়াবাড়ির অন্ধকারে কেন নিজেকে গোপন করে রেখেছ কাল রাত থেকে?
সে আমার ইচ্ছে। আমি এখানে প্রায়ই থাকি।
ঠিক তখনি থাকো যখন কোনও অসহায় মেয়েদের উপর তোমার পৌরুষ দেখাও।
এই বাজে কথা বলবে না। চলে যাও এখুনি।
না। যাব না। আমি এখানে এসেছি মৃত্যু বরণ করতে।
আহঃ অনেকক্ষণ ধরে তোমার বকবক শুনেছি। আর না। দূর হও।
আমি তো কাছে যাইনি। আমি শুধু মৃত্যু চেয়েছি। বহুদূরেই চলে যেতে চেয়েছি।
এই মেয়ে তুমি কি দিয়ে তৈরি? একটা ধর্ষকের সাথে কথা বলছ/ তোমার মান ইজ্জত নেই?
বাঃ চমৎকার! তুমি যখন আমার সামনে তোমার লিংগ বের করে উদ্যম হাসি হেসেছিলে তখন তোমার কি মনে হয় নি তুমি তোমার নিজের সম্মানকে ধর্ষণ করছ। আমার শরীর ধর্ষণ করেছ কিন্তু আমার মান সম্মানকে ধর্ষণ করনি। কিন্তু তুমি তোমার শরীর এবং মান সম্মান দুটোই ধর্ষণ করেছ। সেটা কি বোঝার মত বোধ শক্তি তোমার আছে? আমার মান ইজ্জত নিয়ে প্রশ্ন করছ কেন? তোমার নিজের কি সেটা আছে?
তুমি কি একটু বসবে? ভেতরে বসতে বলছি না। ঐ যে দরজার সিঁড়িতে বস। আমি বাইরে আসছি।
তোমার অস্ত্রটা নিয়ে এসো।
ওটা আমার সাথেই আছে।

সত্যি করে বল, আমি এখানে আছি এটা জেনেই কি তুমি এখানে এসেছ? তোমাকে কে জানিয়েছে আমি এখানে আছি?
জয়দীপ। তোমাদের বন্ধু।
সে তো এখান থেকে সকালে বেড়িয়েছে। তাকে কোথায় পেলে?
হতাশার মোড়ে। চা খাচ্ছিল ফটুমিয়ার দোকানে।
তুমি এই অবস্থায় মেইন রোড দিয়ে হেঁটে ফতুর দোকানে গেলে কি করে? জয়দীপের সামনে তোমার লজ্জা করেনি? দোকানে তো সব সময় লোকজন ভরা থাকে। ওদের সামনে কিভাবে গেলে?
লজ্জা থাকলে তো করবে!
সে কি বলছ? লজ্জা কেন থাকবে না?
তাহলে কি তুমি মানছ যে, শরীরটাই একমাত্র লজ্জার স্থান নয়, দেহ লজ্জা করার মত বিষয় নয়?
ঠিক তা নয়।
তবে? লজ্জা দিয়ে কি বলতে চাইলে? ছেড়া ফাটা জামা কাপড়?
না তাও ঠিক না। আসলে কি জানো আমি তোমার মত ভালো করে বোঝাতে পারিনা। না, তুমি ঠিকই বলেছ আমি তোমার ছেড়া ফাটা জামা কাপড় আর শরীরকেই বুঝিয়েছি মনে হয়। না, থাক ওসব কথা। বাদ দাও। আচ্ছা বলতো জয়দীপ তোমার কাছে মুখ খুলল কেন? ওর তো বলার কথা না।
তুমি মেয়রের ছেলে। তোমার কথা কি সহজে সে বলেছে! মোটেই না।
তাই তো জানতে চাচ্ছি, ও তোমাকে আমার ঠিকানা দিল কেন? কি এমন করেছ তাকে?
আমি কিছুই করিনি। শুধু তাকে নিশ্চিন্ত মনে চা খেতে দেখে আমি পিছন থেকে তার গায়ে উবু হয়ে গলা শক্ত করে জড়িয়ে কানে কানে বলেছি, জয়দীপ তুই আমার জাতিকূল। মোবাইলে কত গল্প করেছিস অথচ সেই তুই আমাকে ছুঁয়ে দেখলি না? তোর বন্ধুদের সাহায্য করলি! এটা কি ঠিক হল? এত বড় অন্যায় আমার সাথে তুই করতে পারিস না। তুই আমাকে চেখে না দেখলে আমার যে নারীত্বের ভীষণ অপমান হবে।
সে কি কাণ্ড! তুমি এসব সত্যি ওকে বলতে পারলে?
বিশ্বাস না হলে জয়দীপকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিবে।
আহ ছাড়ো ওসব কথা। জয়দীপ কেন আমার ঠিকানা দিল সেটা আগে বল।
বলছি তো। এত অধৈর্য থাকলে আমি বলতে পারব না।
আচ্ছা বেশ বল। তারপর জয়দীপ কি বলল?
সে আমার হাতদুটো তার গলা থেকে খুবসে টানাটানি করে ছাড়াতে চাইল কিন্তু পারলো না। ফটুমিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, এই তুই একটু সরে যা তো আমার এর সাথে কিছু কথা আছে। ফটু সরে দাঁড়াতেই আমাকে বলল, কি হচ্ছে পূজা? আমার গলা ছাড় বলছি। আমি বললাম, না আমি ছাড়বনা। জয়দীপের হাত থেকে চায়ের কাপ পরে গেলে সে আরও খেপে গিয়ে আমার হাত দুটো জোরে টান দিয়ে ছাড়াতে চায়। কিন্তু ওর কানে কামড়ে ধরলে চিৎকার করে বলে, পূজা তুই কি চাস? আমি তখন ওর কানে কানে বললাম, একটা ছেলের হাতে পিস্তল ছিল। সে কোথায়? তাড়াতাড়ি বল নইলে কান ছিঁড়ে ফেলব।
ওহ শালার পো শালা। অমনি ব্যটা ছাগল জয়দীপ তোমাকে আমার পরিচয় সহ এই পোড়াবাড়ির কথা বলে দিল? শালা একটা পাঁঠা। একটা মেয়ের সাথে পারে না।
না পাঁঠা নয়। ও একটা রামপাঁঠা বটে। আমি যখন স্টোভ থেকে গরম জলের কেতলিটা তুলে ওর গায়ের সামনে ধরলাম ও বেচারা তখনও নিজের কান সামলাতে সামলাতে নড়তেই পারলো না।
কি সাঙ্ঘাতিক! এর মধ্যে আবার গরম পানির কেটলি হাতে নিলে!
হ্যাঁ। হি হি হি। আরে শোন না, তারপর সে রামপাঁঠা কি এক হাবার মত চেহারা করে বলল, তুই আমার গায়ে গরম জল ঢালবি নাকি? আমি গরগর করে কিছুটা ঢেলে দিয়ে বললাম, এখন এইটুকু ঢাললাম, বাকিটা আমার সব প্রশ্নের উত্তর না দিলে ঢেলে দিব। আচ্ছা তুমি কি ঘামছ? তোমাকে এমন চিন্তিত লাগছে কেন?
না। কই না তো। আমি মোটেই ঘামছি না।
তাহলে ঢোক গিলছ কেন? আর তোমার কপাল তো ভিজে গেছে ঘামে!
না ও কিছু না। আসলে দুপুরের এই সময়টা আমার খুব গরম লাগে। আর দেখছ না কোন বাতাস নেই।
তা ঠিক। জানো এই দুপুরে আমি বাসায় ফিরে মায়ের জন্য নরম ভাত রান্না করি। মায়ের শক্ত ভাত খাওয়া বারণ। আর আমার ভাই পুঞ্জ, ও তো স্কুল থেকে বাসায় ফিরেই অপেক্ষা করে কখন দিদি আসবে আর স্কুলে কি কি ঘটনা হয়েছে সেগুলো শোনানোর জন্য অস্থির থাকে। জানো, মা অসুস্থ থাকে বলে মায়ের সাথে ওর গল্পটা জমে ওঠেনি। সব গল্প আমার সাথে। আজ দুদিন থেকে ওর নিশ্চয়ই অনেক গল্প জমে আছে। ও নিশ্চয়ই ঘন ঘন জানালার রেলিং ধরে ঝুলে ঝুলে রাস্তা দেখছে। আমার একটা ছাগি আর তার দুটো ছানা আছে। আমি না ফিরলে ওরাও খাবার পায় না। বাড়ির বাইরে ওরা খুব একটা যায় না। ঘুরে ঘুরে আমার কোলে- ঘাড়ে ছানা দুটোর আহ্লাদ। একটা বিড়ালও আছে। কুচি। কুচিও আমার খুব নেওটা। ওরা সবাই হয়তো কাল থেকে আমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে না খেয়েই আছে। পুঞ্জ ওদের সামলে নিতে শিখুক এখন এটাই আমার চাওয়া।
তোমার বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে? আমি দিয়ে আসি?
না। তুমি আমাকে ঐ অস্ত্রটা দাও।
ওটা তো তুমি চালাতে জানো না। আচ্ছা তুমি তো থানায় যেতে পার। আমার বাবার নাম জানো, আমার নাম কি জানো?
জানি। ইশ্তি আহমেদ।
ঐ রামপাঁঠা সেটাও বলে দিয়েছে। তাহলে আমার নামে থানায় একটা জিডি কর।
না। করব না।
কেন? সমস্যা কোথায়? আমিই তো বলছি।
না। করব না। কি হবে তাতে? তোমাকে তোমার মেয়র বাবা ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে। নয়তো তোমার বিচার হবে, শাস্তি হবে- জেল কিম্বা বড় জোর মৃত্যু?
মৃত্যু কি বড় শাস্তি নয়?
না। মৃত্যু কোন শাস্তিই নয়। তবে হ্যাঁ মৃত্যু একটা ভয়ানক ভয়।
সেই ভয়ের ভিতর দিয়ে যাওয়াটাওতো একটা বিরাট শাস্তি।
আমি আসলে তোমাদের কাউকেই শাস্তি দিতে আসিনি। আমি এসেছি আমার মৃত্যুকে বরণ করতে।
তবে জয়দীপের গায়ে গরম জল ঢেলে দিলে যে?
তোমরা আমাকে ধর্ষণ করেছ। আর ওই জয়দীপ তোমাদের সাহায্য করে বড় অঙ্কের টাকা নিয়েছে। তাই ওর পুড়ে যাওয়া উচিত। ও একটা কাপুরুষ। প্রেমের অভিনয় করে আমাকে নির্জনে ডেকে নিয়ে এক পাল রাক্ষসের মুখে তুলে দিয়েছে। ওর পুড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন পথ থাকতে পারে?
আমি জানতাম না ওর সাথে তোমার প্রেম হয়েছিল।
জানলেই বা কি? তুমি তো ধর্ষক। তোমার অবলা হলেই চলে। ধর্ষকদের একটা নারী শরীর হলেই চলে। যা পেয়েছ তাই তুমি খেয়েছ।
আহঃ থামো। বেশি কথা বলছ। মেজাজ আমার খারাপ করে দিচ্ছ আবার।
আমি বেশি বলছি না। তুমি সত্যকে সহ্য করতে পারছ না। জয়দীপের বোন হলেও তুমি একি কাজ করতে। তোমার বোনের মুখে মুখোশ পরা থাকলেও তুমি একি কাজ করতে।
এই বেয়াদপ মেয়ে একদম চুপ কর। নইলে তোর গলার ভিতর এখুনি গুলি করব।
আমি তো আগেই বলেছি আমি মৃত্যুকে বরণ করতে এসেছি। তবু কেন বারবার আমাকে ধমক দিচ্ছ? মৃত্যুর ভয় দেখাচ্ছ? কর না একটা গুলি প্লীজ। তাহলে সব মিটে যায়। তুমি না ধর্ষক? রেপ কর না হয় আরেকবার ?
উফ! খোদা! আমি আর সহ্য করতে পারছি না। হ্যাঁ আমি স্বীকার করছি আমি ধর্ষক। আমি ধর্ষক। আমাকে একটু শাস্তি দাও এবার। আমি আমার আদরের ছোট বোনের সাথে অনেকদিন কথা বলিনা। সে আমাকে পছন্দ করে না। আমি ভাই হিসেবে জঘন্য। আমাকে একটু শাস্তি দাও। আমি তোমার কথা আর শুনতে চাই না। হয় তুমি চলে যাও। নইলে আমাকে শাস্তি দাও। আমি তোমার ধর্ষক। বরং তুমিই আমাকে মৃত্যু দাও। এই মেয়ে তোমার নাম কি বললে যেন?
পূজা।
হ্যাঁ পূজা। প্লীজ আমাকে মুক্তি দাও। তুমি আর এসব আমাকে বল না। আমার বাবা- মা- বোন কেউ আমাকে ভালবাসে না। তুমি তোমার বিধবা মা আর এতিম ছোট ভাইকে কত ভালবাস। তোমার ঘরে এত অভাব কিন্তু ভালবাসার কোন অভাব নেই। আমার ঘরে সব আছে। অনেক সম্পদ আমাদের। কিন্তু ভালবাসা নেই। আহ ! আমার বুক ফেটে যাচ্ছে পূজা। তুমি এবার আমার কথা শুনবে প্লীজ। আমার মনের কোনো কথা কেউ শোনেনি কোনোদিন। ছোটবেলায় আমার খুশির জন্য কত দামী দামী খেলনা এনে দিত সবাই। কিন্তু আমি স্বপ্নে দেখা একটা রাজপুত্র আর ফড়িঙের গল্প শোনাতে পারিনি কাউকেই। যতবার বলতে চেয়েছিলাম ততবার বড়রা তাঁদের কাজ নিয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে সরে গেছে। পূজা, ও পূজা শোনো প্লীজ লক্ষ্মী সোনা শোনো। তুমি জানো না, হয়তো বিশ্বাসও করবে না। সত্যিই বলছি, আমারও ভেতরে অনেক কথা আছে পূজা। তোমার ছোট ভাইটার মত আমিও স্কুল থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে ঘরে ফিরতাম যখন, মাথার ভেতর অনেক গল্পের বুদবুদ দানা বেঁধে যেত। মা রান্না ঘরে সারাদিন মেহমান আর পার্টির লোকজনের খাবার রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকত। যদিও এখন সে কাজের লোক দিয়ে রান্না করায়। বাবাকে সপ্তাহে যে ক'দিন পেয়েছি সব সময় লোকজন নিয়ে বৈঠক ঘরে আলোচনা নিয়ে থাকত। ভেতর মহলে এলে বিশ্রাম নিতেন। মা বাবা দরজা লাগিয়ে ঘুমতেন। আমার কাজ শুধু স্কুল ঘর থেকে বাসার ঘরে ফিরলে গোসল করে খেয়ে ঘুমিয়ে বিকেলে কোচিং এর জন্য তৈরি হওয়া। স্নধ্যায় ঘরে ফিরতে না ফিরতেই গৃহ শিক্ষক পৌঁছে যেতেন। খেলা বলতে আমি কাজের ছেলের সাথে ঘুরে বেড়িয়েছি আর সুযোগ পেলেই কারো ঘরের দরজার ছিদ্র দিয়ে যা না দেখার তাও দেখেছি। স্কুলে বন্ধুদের সাথে আজে বাজে গল্পে মজে গেলাম কবে নিজেও এখন মনে করতে পারি না। ডিশ এন্টেনার সুযোগে একাকি ঘরে অনেক উলঙ্গ ছবি দেখেছি অকালে। সিগারেট খাওয়া শিখেছি কবে বাবা মা জানতেই পারেনি। সেভেন এইটে আমি গাঁজা খাওয়া শুরু করি। তারপর আসতে থাকে টাকার বিনিময়ে কত রমক নেশা। চোখ লাল দেখে বাবা একদিন বেধম মারধর করল। আমার আরও খেতে ইচ্ছে করল। আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলাম। আবার বাবার লোকেরা ধরে নিয়ে ঘরে আটকে রাখল। ওঃ পূজা। তুমি কি শুনতে পারছ? আমি খুব অসহায় পূজা। তুমি কত অসহায় আমি তোমার চেয়েও অসহায় পূজা। আমি স্বীকার করছি পূজা, আমিই তোমার ধর্ষক। আমাকে শাস্তি দাও প্লীজ। যে কোন শাস্তি দাও।
চলবে.....................
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71