শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
শুক্রবার, ২০শে অগ্রহায়ণ ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
দশ মহাবিদ্যার অন্যতম মা ধূমাবতীর শুভ আবির্ভাব তিথি আজ
প্রকাশ: ০৫:৩৪ pm ২৯-০৪-২০২০ হালনাগাদ: ০৫:৩৪ pm ২৯-০৪-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আমরা সর্বদা মায়ের পূজায় আলতা, সিঁদুর, শাঁখা পলা, রঙ্গীন বস্ত্র মাকে নিবেদন করি। মাকে আমরা সিঁথিতে সিঁদুর, আলতাতে রাঙ্গানো চরণ- এই রূপেই দেখতে অভ্যস্ত। প্রাচীন কাল থেকে মায়ের বিভিন্ন রূপ দুর্গা, কালী, চণ্ডী ইত্যাদিকে এই বেশে পূজা করি, আমরা মনে করি মায়ের স্বামী স্বয়ং কৈলাস পতি ভগবান শিব । কিন্তু মায়ের এই রূপ বিধবা রূপিনী। তিনি হলেন মা ধূমাবতী। এঁনার স্বামী নেই, তাই ইনি সধবার বেশ ধারন করেন না। বিধবার বেশে তিনি থাকেন। মা ধূমাবতীর আবির্ভাব সম্বন্ধে একাধিক ঘটনার পরিচয় পুরান ও তন্ত্রে পাওয়া যায়। একটি ঘটনা হলো- একদিন মহাদেবী মা পার্বতীর অত্যন্ত ক্ষুধার উদ্রেগ হওয়ায় তিনি দেবাদিদেবের কাছে আহার প্রার্থনা করলেন। ভগবান ভোলাশঙ্কর জানালেন- “ক্ষণ কাল অপেক্ষা করো। আমি তোমার আহারের ব্যবস্থা করবো।” কিন্তু দেবী গিরিজার সহ্য হলো না। বারকয়েক স্বামীর কাছে খাদ্য প্রার্থনা করে বিফল হলে তিনি ভগবান শিবকেই গ্রাস করলেন। এরপর দেবীর শরীর থেকে ধূম বের হতে লাগলো। দেবীর স্বামী স্বয়ং দেবীর গ্রাস হয়েছেন। তাই তিনি স্বামী হীনা বিধবা রূপিনী। পুনঃ মহাদেব ধূমের মাধ্যমে দেবীর তনু থেকে প্রকট হলেন।

অপর একটি ঘটনা অনুসারে দক্ষ যজ্ঞে পতি নিন্দা সহ্য করতে না পেরে ভগবতী সতী যজ্ঞের আগুনে ঝাঁপ দিলে তাঁর দাহিত নিথর শরীর থেকে যে ধূম বের হয়, তাই থেকেই মা ধূমাবতীর সৃষ্টি হয়। ধূমাবতী দেবী রথে থাকেন। রথকে মনের সাথে তুলনা করা হয়। রথের আশেপাশে অনেক কাক থাকে। এছাড়া দেবীর রথে কাক চিহ্ন ধ্বজা থাকে। কাককে বাসনা গ্রস্ত মনের প্রতীক রূপে চিহ্নিত করা হয় । ইঁনি ধূম বা ধোঁয়া রূপে সর্বত্র যাতায়াত করতে পারেন। ধূমের গতি সর্বত্র। ইনি অপরিচ্ছন্ন সাদা থান কাপর পরিধান করেন। চুল গুলি এলোমেলো। হস্তে ঝাটা, কূলো ইত্যাদি ধারন করেন। ঝাটা দ্বারা আমরা নোংরা পরিষ্কার করি। কূলো দ্বারা চাল, ডাল ঝেড়ে ময়লা ফেলি। সুতরাং অসার ত্যাগ করে সারকে গ্রহণ করার তত্ত্ব স্বরূপ দেবী এই গুলি ধারন করেন।

দশমহাবিদ্যার দশ দেবীর মধ্যে কেবল এই দেবী ভৈরব বিহীনা। তিনি বিধবা রূপিনী। শিবকে আত্মসাৎ করেও তিনি ক্রিয়াশীলা। ইঁনি অনান্য মহাবিদ্যাদের মতোই ইপ্সিত ফল প্রদান করেন। এই দেবী সর্বদা ক্ষুধায় বার্ধক্যে পীড়িতা। ইনি চঞ্চলা ও দারিদ্রা পূর্ণা। ঋক বেদের রাক্তি সুক্তে এঁনাকে ‘সুতরা’ বলে আখ্যায়িতা করা হয়েছে। ইনি তুষ্ট হলে অভাব ও সঙ্কট দূরীভূত হয়। আবার ইনি রুষ্টা হলে ঠিক বিপরীত ফল টাই ঘটে। ধূমাবতী রূপে বিধবা হবার পর মা নিজে এরপর বগলা রূপে প্রকট হয়ে সধবা চিহ্ন শাঁখা, পলা, সিঁদুর ধারন করেছিলেন। ধূমাবতীর মন্দির অসমে, মধ্যপ্রদেশে, ঝাড়খণ্ডে দেখা যায়। রাজা বিক্রমাদিত্য এঁনার পূজা করে বেতালসিদ্ধ হয়েছিলেন। এই দেবীর পূজা সাধারন পুরুত করতে পারেন না। অভিষিক্ত সাধক তন্ত্র মতে এই দেবীর পূজা করেন।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71