শনিবার, ২৭ মে ২০১৭
শনিবার, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪
সর্বশেষ
 
 
নাসিরনগরে তাণ্ডব
তদন্তে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর চার দিনের রিমান্ডে
প্রকাশ: ০৮:১১ am ৩০-১১-২০১৬ হালনাগাদ: ০৮:১৩ am ৩০-১১-২০১৬
 
 
 


ব্রাহ্মণবাড়িয়া:: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনার এক মাসের মাথায় তদন্ত নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে। রসরাজ দাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ধর্ম অবমাননার ছবি পোস্ট হয়নি—এমন প্রমাণ পাওয়ার পর জড়িতদের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে তদন্ত কর্মকর্তাদের।

এ অবস্থায় নাসিরনগরের হরিণবেড় বাজারের আল-আমিন সাইবার পয়েন্ট ও স্টুডিওর মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে গত সোমবার গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কালাইশ্রীপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। গ্রেপ্তারের পর জাহাঙ্গীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে আরেকটি কম্পিউটার (সিপিইউ) জব্দ করেছে ডিবি পুলিশ। ভাঙচুরের ঘটনায় নাসিরনগর থানায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার ছবি পোস্ট, ছবি প্রিন্ট করে বিলিয়ে উত্তেজনা ছড়ানো, হামলার ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। ঘটনার পর সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। হামলার ঘটনায় মোস্ট ওয়ানটেড হিসেবে পুলিশ যে পাঁচজনকে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার মধ্যে জাহাঙ্গীর একজন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন আল-আমিন সাইবার পয়েন্ট থেকে যেসব আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল সেগুলো থেকে ফেসবুকে ছবি পোস্টের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গত সোমবার এ-সংক্রান্ত রিপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু ওই সাইবার পয়েন্ট থেকে কিছু আলামত সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর জাহাঙ্গীরের দেওয়া তথ্য মতে মাধবপুর থেকে যে কম্পিউটারটি জব্দ করা হয়েছে সেটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের হামলার ঘটনা সম্পর্কে জাহাঙ্গীর কিছু তথ্য দিয়েছে। কিন্তু ছবি পোস্ট করার বিষয়ে তার কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে জব্দ করা কম্পিউটার পরীক্ষা করলেই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।’ 

ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদে ডাকা সমাবেশ থেকে নাসিরনগরে তাণ্ডব ঘটানো হয় গত ৩০ অক্টোবর। ঘটনার এক মাসের মাথায় সেখানকার পরিস্থিতি এখন শান্ত। গত কয়েক দিন ধরে পুলিশি তদন্তে নানা অগ্রগতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। রসরাজের মোবাইল ফোন থেকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্ট করা হয়নি বলে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট দিয়েছে পিবিআই। বিএনপি নেতা মো. বিল্লাল মিয়া ট্রাক ভাড়া করে লোক আনা ও নিজের ট্রাক্টর দেওয়ার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া দুই ট্রাক চালকের জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ তাঁর সমর্থকদের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরের নামও রয়েছে।

এদিকে ২৯ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর থেকে রসরাজ এখনো জেলহাজতে রয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁকে হেফাজতে (রিমান্ড) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাঁর জামিন আবেদনের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন এক আইনজীবী।

নাসিরনগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘শুরু থেকে আমরা যে ধারণা করছিলাম সেটাই এখন সত্য হলো। রসরাজের মোবাইল ফোন থেকে ছবি পোস্ট করা হয়নি বলে পুলিশের প্রতিবেদনেও জানানো হয়েছে। এখন এ বিষয়টি স্পষ্ট যে ফেসবুকে রসরাজের আইডি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধর্ম অবমাননার ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে ও হিন্দুদের সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য এটা করা হয়েছে। এখন পুলিশের উচিত ঘটনার নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করা।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন গতকাল সন্ধ্যায়  বলেন, ‘রসরাজের পক্ষে এভাবে ছবি এডিট করে পোস্ট করা সম্ভব নয় বলে শুরু থেকেই আমাদের ভাবনায় ছিল। এখন এ বিষয়ে মতামত পাওয়ায় ধারণাটা অনেকটা স্পষ্ট হলো। সাইবার পয়েন্টের মালিক জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার হওয়ায় ছবি পোস্টের বিষয়ে তদন্ত আরো এগোবে বলে মনে করি।’ 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন আরো বলেন, ‘রসরাজের মোবাইল ফোনটি জব্দ করে পিবিআইয়ের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। সেখানকার রিপোর্টে ওই মোবাইল ফোন থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়নি বলে মত দেওয়া হয়েছে। ছবি পোস্টের সময়টাতে রসরাজ বিলে মাছ ধরার কাজে ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়টি যদি প্রমাণ হয় তাহলে রসরাজ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলা যাবে।’

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

Communication with Editor: editor@eibela.com

News Room E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

  বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: editor@eibela.com

  মোবাইল:+8801711 98 15 52 

                +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71