সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমবার, ১৩ই আশ্বিন ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
ঢাকায় স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে করোনার থাবা কিন্তু কেন ?
প্রকাশ: ১২:৪১ pm ২৬-০৪-২০২০ হালনাগাদ: ০৫:১৮ pm ২৬-০৪-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


রাজধানীর স্বামীবাগে ইসকন মন্দির লকডাউন করা হয়েছে। মন্দিরের পুরোহিত, সেবায়েতসহ ৩৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে তাদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার সকাল থেকে মন্দিরটি লকডাউন করা হয়।

স্বামীবাগ মন্দিরে অবস্থানরত প্রভুদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকার কর্তৃক লকডাউন মন্দির কর্তৃপক্ষ যথাযথ ভাবে মেনে চলছিল। কোন প্রভু বাইরে তেমন বেরও হতো না। বাইরের থেকে প্রয়োজনীয় খাবার চাল-ডাল, সবজি ভিতরে ঢুকলে তারা স্প্রে সহ অন্যান্য ব্যবস্থা করেই ব্যবহার করে থাকে। তবে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তারা বলছেন- গত কয়েকদিন আগে তারা ত্রান বিতরন করেছে, এছাড়া যদি কেউ বাইরে যেয়ে থাকে এবং অন্য যে কারণটি মন্দিরের পাশেই কবরস্থান। সেখান থেকেও কোন কারণে ভাইরাসটি ছড়ালেও ছড়াতে পারে।

প্রভুরা আরো জানান, আক্রান্ত ৩৬ জনকে মন্দিরের আলাদা আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে। আইইডিসিআর এর ডাক্তার এসে তাদের দেখে গেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার শাহ্ ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, মন্দিরে এই ৩৬ জনই অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজনের সর্দি কাশি হলে সবার পরীক্ষা করায় মন্দির কর্তৃপক্ষ। প্রথম পরীক্ষায় সবারই করোনা পজিটিভ এসেছে। আগামী সোমবার দ্বিতীয় পরীক্ষা করানো হবে।

পুলিশের এই উপকমিশনার জানান, একজন সহকারী উপপরিদর্শক মন্দিরের নিরাপত্তার তত্ত্বাবধানে ছিলেন। নমুনা পরীক্ষায় তারও করোনা পজেটিভ এসেছে।

গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজু মিয়া বলেন, ইসকন কর্তৃপক্ষ বহু আগেই মন্দিরে বাইরের কারও প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছিল। যারা ছিলেন তারা সব সময় ভেতরেই অবস্থান করতেন।

কিন্তু কেন?

১. নিশ্চয়ই এই মন্দির করোনার আঁতুড় ঘর নয়, যে রোগটা এখান থেকে ছড়াল।
২. সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশে ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন,  রাজনৈতিক দল এমনকি ব্যাক্তিগত পর্যায়েও মানুষ ত্রানসহ নানা প্রকারের সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে আসছে। 
৩. ইসকনের  Food for Life নামে একটা শাখা আছে যা সারা বিশ্বে অসহায়, দূর্যোগে আক্রান্ত মানুষকে সাহায্য করে। বাংলাদেশে এই করোনার দূর্যোগ মোকাবিলায় ইসকনের একটা দল স্বামীবাগ মন্দির থেকে মানুষকে ত্রান দিয়েছে।
৪. ফলাফল হল গতানুগতিক যেমনঃ- রাতদিন ডিউটি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের লোক, স্বাস্থ্য কর্মী, ফার্মাসিষ্ট, সমাজসেবী যেভাবে আক্রান্ত হয় ঠিক ইসকনের কর্মীরা ও সেভাবেই আক্রান্ত হল।

কিন্তু কথা হল এক মন্দিরে এতজন কেন আক্রান্ত।
চলুন একটু জানি।

১. মন্দিরে থাকা এই লোকেরা অধিকাংশ ব্রাহ্মচারী ও সন্যাসি (যারা সংসার করে না বা, গৃহত্যাগী যারা মন্দিরে থাকবে বাকি জীবন) ও ধর্ম প্রচারনা ও মানুষের কল্যানে কাজ করবে।

২. এই সকল ব্যক্তির আমার কিংবা আপনার মত ধন, জন, সম্পদ এর লোভ নেই।

৩. স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরের কাঠামোগত দিক জানুনঃ-

ক. অনেকটা কলেজ, ভার্সিটির হোস্টল এর মত তারা সবাই মিলে ৩/৪ টা স্নান ঘর ব্যাবহার করে সবার স্নান এর জন্য।
খ. ৩/৪ টা  ওয়াশরুম ব্যাবহার করতে হয় সবাইকে।
গ. হোস্টেল এর ডাইনিং এর মত একটা ঘরে সবাইকে একসাথে খেতে হয়। 
ঘ. আরাম আয়েশ এর বিছানা উনাদের নেই। হোস্টেলের মত সবার সিংগেল তক্তোপোস/ খাট থাকলেও এক ঘরে ৩/৪ জন থাকেন।
ঙ. প্রত্যহিক প্রার্থনা ও কীর্তন করেন মন্দিরের ভেতরে নিজেরাই। 

তাহলে একটু ভেবে দেখুন, ত্রান দিতে গিয়ে যেকোন একজন আক্রান্ত হলে উনার পক্ষে পুরো মন্দিরের সব লোককে আক্রান্ত করা সম্ভব। 

এই মুহুর্তে প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা অব্যহত আছে, ডাক্তার আছেন, আইসোলেশন করে পর্যবেক্ষন অব্যহত আছে, সবাই দ্রুত সুস্থ হবেন এই প্রতাশা আমাদের সকলের, করো শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত স্থানান্তরের ব্যাবস্থা ও রয়েছে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71