শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০১৭
শুক্রবার, ১০ই চৈত্র ১৪২৩
সর্বশেষ
 
 
গ্রহণযোগ্য স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রচেষ্টা
প্রকাশ: ১২:৩৪ pm ২৩-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ১২:৩৮ pm ২৩-১২-২০১৬
 
 
 


ড.অরুণ কুমার গোস্বামী: একটি গ্রহণযোগ্য স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রাখার লক্ষ্যে, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য।  

যদিও শুধু নির্বাচনই গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা দেয় না, তথাপি নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ।

১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রণীত সংবিধানের ‘সপ্তম ভাগে’ নির্বাচন-এর কথা বলা হয়েছে। সপ্তম ভাগে সংযোজিত সংবিধানের ১১৮ থেকে ১২৬ নং পর্যন্ত মোট নয়টি অনুচ্ছেদে নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকান্ডের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিবৃত হয়েছে। ১১৮ নং অনুচ্ছেদে ‘নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার’ কথা বলা হয়েছে।

১১৮এর (১)-এ বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে এবং রাষ্ট্রপতি সময়ে সময়ে যেরূপ নির্দেশ করবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ করবেন।’

এই অনুচ্ছেদের (২) নং উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার সভাপতিরূপে কাজ করবেন।’ (৩) নং উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে কোন নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বৎসরকাল হবে।’ ১১৮এর (৪) নং উপ-অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকার এবং কেবল প্রজাতন্ত্রের সংবিধান ও আইনের অধীন হবার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত  মূল আইন। পাশাপাশি, আরো কিছু আইন, বিধি ও বিধানবলী আছে যেখানে বিস্তারিতভাবে বিভিন্ন কার্যাবলীর পদ্ধতি যেমন ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদের মহিলা সদস্য সংক্রান্ত, এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য নিয়ম কানুনের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়াও কিছু আইন আছে যেখানে নির্বাচন কমিশনারদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অফিসার ও স্টাফদের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বদলি সংক্রান্ত আইন আছে।

এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য নির্বাচন কমিশন ‘আচরণ বিধি’ প্রণয়ন করে থাকে। সর্বশেষ ‘কোড অব কন্ডাক্ট ফর পার্লামেন্ট ইলেকশন্স, ২০০৮’ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য পালনীয় ‘আচরণ বিধি’ নির্বাচন কমিশন প্রণয়ন করেছে। নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাস্তবায়নযোগ্য এইসব আইন-কানুন, বিধি-বিধান প্রভৃতি কতটুকু বাস্তবায়িত হয় এবং সেই বাস্তবায়নের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের তথা জনগণ ও বিদেশী পর্যবেক্ষদের কতটুকু আস্থা থাকে তার উপরই নির্ভর করছে সব পক্ষ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট নির্বাচনটির গ্রহণযোগ্যতা। এভাবে ‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ ও গ্র্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানই হচ্ছে’ স্বাধীন, শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের মাপকাঠি।

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি ‘বিদ্যমান ধারনা’ করা হচ্ছে, ‘যদি নির্বাচন কমিশনের প্রধান এবং এর সদস্যগণ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়’ তাহলেই কেবল সেই ‘নির্বাচন কমিশন’ একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবেন ! এই আশার বশবর্তী হয়েই নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াকে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপ করছেন।  

ইতোমধ্যে, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রভৃতি রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ করেছেন। আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংলাপ করবেন। সম্ভবত এরপরেই, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ  (০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭) শেষ হওয়ার পূর্বেই, সার্চ কমিটির মাধ্যমে সুপারিশকৃত ‘যোগ্য’ ব্যক্তিদের অথবা রাষ্ট্রপতির নিজস্ব বিবেচনায় ‘যোগ্য’ ব্যক্তিদেরকে ‘রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ করিবেন।’

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপের মাধ্যমে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে বিরাজমান বর্তমান ‘আস্থাহীন পরিস্থিতি’ থেকে ‘আস্থার’ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে।

এই ‘আস্থার’ ভিত্তি হচ্ছে স্বাধিন বাংলাদেশ অর্জনের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মাতৃভূমির বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ করেছে এবং মানুষ হত্যা করেছে তাদের সাথে আস্থা স্থাপনের কোন প্রয়োজন নেই। কারণ স্বাধিনতা বিরোধীদের সাথে ‘আস্থার’ সম্পর্ক স্থাপন, এবং বাংলাদেশের স্বাধিনতাকে অস্বীকার করা একই কথা। বলা বাহুল্য, এই আস্থাহীন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একদিকে এই নারকীয় হত্যাকান্ডের বিচার বন্ধের জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, অপর দিকে সংবিধানের নিয়ম-কানুনগুলোকে কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। এই অকার্যকারিতার কবল থেকে নির্বাচন কমিশনের স্বাধিন থাকা সম্বলিত সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদের ৪ নং উপ-অনুচ্ছেদও বাদ যায়নি।  

ফলে, বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার প্রেক্ষিতে ‘দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে’ নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন সামরিক-বেসামরিক শাসকদের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। যেকোন নির্বাচন নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য এবং সহিংসতা মুক্ত হতে হবে, এটাই স্বাধীনতায় বিশ্বাসী বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিক আশা করে। একারণেই সংবিধানের উল্লেখিত অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করার  কথা বলা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত:, পঁচাত্তর পরবর্তী নির্বাচনগুলো আমাদেরকে জর্জ অরওয়েলের ‘এনিমেল ফার্ম’ (১৯৪৫) উপন্যাসের কথা মনে করিয়ে দেয়।

ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে ভারতের বিহারে) চম্পারন জেলার মতিহারিতে জন্মগ্রহণকারী জর্জ অরওয়েল (আসল নাম এরিক আর্থার ব্লেইর, জন্ম ১৯০৩-মৃত্যু ১৯৫০)এর স্যাটায়ারধর্মী উল্লিখিত উপন্যাসে বাহ্যত জন্তুদের একটি গোষ্ঠীর কাহিনী আলঙ্কারিকভাবে বলা হয়েছে। এই ‘এনিমেল ফার্মের’ জন্তুরা সেখানে বসবাসকারী  মানুষদের তাড়িয়ে দিয়ে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করে। এরপর নিজেরাই এই ফার্ম পরিচালিত করতে থাকে।

জন্তুদের দ্বারা পরিচালিত ‘ফার্ম’ নিজেই একটি নিষ্ঠুর ও স্বেচ্ছাচারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এই উপন্যাসটির অনেক উক্তিই সমাজ ও রাজনীতি সম্পর্কিত ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। উপন্যাসটির একটি বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে, ‘অল এনিমেলস্ আর ইকোয়াল, বাট সাম্ এনিম্যাল্স আর মোর ইকোয়াল্স দ্যান আদারস্’। এই উক্তিটিকে শব্দান্তর করে, ১৯৭৫ পরবর্তীকালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর দ্বারা যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেসম্পর্কে বলা যায়, ‘অল আর ইকোয়াল, বাট সাম আর মোর ইকোয়াল্স দ্যান আদারস্’।

অর্থাৎ এখানে নির্বাচনের দ্বারা  ‘উইনারস্ টেক ইট অল’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে দেখা যায়। যেখানে আর কোন ‘রাজনৈতিক এক্টরদের’ কোন অবস্থান থাকে না, যদিও আপ্তবাক্যের মত বলতে শোনা যায় ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’। বিশেষত পঁচাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আমাদেরকে এই পরিস্থিতিতে পৌঁছে দিয়েছিল।

বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমদের মেয়াদ শুরু হয়েছিল ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে। তাঁর মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে। বলা হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানই কাজী রকিবউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ কাজ। বিগত পাঁচ বছরের কর্মকান্ডের কারণে সমালোচনা কখনো বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পিছু ছাড়েনি।

তবে, এই ‘সমালোচনার’ সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সদিচ্ছার প্রশ্নটিও জড়িত।  এই সাথে এটিও উল্লেখ করা সঙ্গত যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রাখার স্বার্থে যেমন স্বাধিন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা সংবিধানে রাখা হয়েছে, ঠিক এর বিপরীতে সংবিধানের কার্যকারিতা স্থগিত করে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেয়ার লক্ষ্যে অতীতে নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলুষিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত কলঙ্কিত কতকগুলো নির্বাচনের কথা এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। ১৯৭৭-এর ৩০ মে ‘হাঁ’ ‘না’ ভোট; ১৯৭৮-এর ৩ জুন-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন; ১৯৭৯-এর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন; ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ-এর রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থান; ১৯৮৫ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ‘হাঁ’ ‘না’ ভোট; ১৯৮৬ সালের ৭ মে তরিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন;  ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন; ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন; ১৯৯৪-এর ২০ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত মাগুড়া-২ আসনের উপ-নির্বাচন; ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভৃতি নির্বাচন কমিশনের কলঙ্কিত এক একটি ঐতিহাসিক দলিল বহন করছে।

বিচারপতি এ. রউফ মাগুড়া-২ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাঁর নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় বিচারপতি এম.এ.সাদেক, বিচারপতি এম.এ.আজিজ প্রমুখ প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকা কালেও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।  যে কারণে, আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্বলিত ৫৮(ক) অনুচ্ছেদ সংযোজিত হয়েছিল।  তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা এসেছিল এবং আদালতের রায়ে তা আবার বাতিল হয়েছে। স্বাধিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলুষিত করার পদক্ষেপের কারণেই মূলত এখন স্বাধিন  ‘নির্বাচন কমিশন’ গঠন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মহলে সাড়া পড়েছে। তবে, পিছনের ইতিহাস তুলে এনে এই মূহুর্তে বর্তমান মহতী প্রচেষ্টায় বাদ সাধা যথার্থ নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সেহিসেবে, নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোভাব ইতিবাচক এবং গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক।

নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংলাপ চেয়েছিল। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিএনপি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দিক।  অবশেষে বিএনপি’র আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আগামী ‘নির্বাচন কমিশন’ গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ১৮ ডিসেম্বর বিএনপি, ২০ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি এবং  সংলাপ করেছে। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় তার দল খুশি ও আশাবাদী। আর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মনে করেন বিএনপির প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন গঠনে সহায়ক। এবছরের নভেম্বরে লিখিত আকারে বেগম জিয়া ইসি পুনর্গঠনে কিছু প্রস্তাব রেখেছিলেন। তারা সেই প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির দপ্তরেও পৌঁছে দিয়েছিলেন। ১৮ ডিসেম্বর সেই প্রস্তাবগুলোর আলোকেই বিএনপি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ করল। ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে জাতীয় পার্টি ৫ দফা পেশ করে। ২১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে ড.অলি আহমদের নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ১৭ দফা পেশ করে; ওই দিনই পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ করে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিনিধি দল। এদিকে গত মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর সদর দপ্তরে ইইউ-বাংলাদেশ সুশাসন ও মানবাধিকার বিষয়ক সাব-গ্রুপের দ্বিবার্ষিক যৌথ সভায় ‘সব দলের অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য স্বাধীন, পক্ষপাতহীন, নিরপেক্ষ এবং সুদক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।’ অন্যান্য কিছুর পাশাপাশি, ইইউ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু, শিশুশ্রম ও গৃহ নির্যাতনের বিষয়টিও এ সভায় তুলে ধরে।

 নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কিত সংলাপে ‘রাজনৈতিক এক্টরগণ’ রাষ্ট্রপতির কাছে এবং তাঁর মাধ্যমে জনগণের কাছে নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কে তাদের বক্তব্য শোনাতে পারছেন। এখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবীগুলো ব্যাখ্যা ও ব্যক্ত করা হচ্ছে। এখানে বিচার নয়, অথবা কোনটি ‘সঠিক’ বা কোনটি ‘ভুল’ সেই সিদ্ধান্ত নয় পরস্পরের প্রতি ‘শুভ বিশ্বাস’ সৃষ্টির জন্য প্রাথমিক বস্তুনিষ্ঠ বোঝাপড়াকে প্রাধান্য দিতে হবে। সংলাপ শেষে, আইনগত ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে, জটিলতার ব্যাপ্তি বিবেচনায় নিয়ে, ‘নির্বাচন কমিশন’ গঠন সম্পর্কে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং সবাইকে সেই সিদ্ধান্তগুলো মানতে হবে। সেটিই আইনের ব্যবস্থা। তবে, সাধারণ সংলাপে, যতক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা একে অপরকে বুঝতে পারবে এবং পরিস্থিতির জটিলতাগুলো অনুধাবন করতে পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যাখ্যা ও পুন:ব্যাখ্যা চলতেই থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে যে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ  (০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ) এর আগেই, আগামী ‘নির্বাচন কমিশন’ গঠন সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ‘বিবেচনা পর্ব’ শেষ করতে হবে।  

 

*প্রফেসর ড. অরুণ কুমার গোস্বামী, চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও পরিচালক, সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

 

এইবেলাডটকম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

News Room: news@eibela.com, info.eibela@gmail.com, Editor: editor@eibela.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71