শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
শুক্রবার, ২০শে অগ্রহায়ণ ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
কৌশলগতভাবে উইঘুর মুসলিমদের পরিচয় মুছে ফেলছে চীন
প্রকাশ: ০৯:৩৩ pm ২৬-০৮-২০২০ হালনাগাদ: ১০:২০ pm ২৬-০৮-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের ওপর শি জিনপিং সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের কথা নতুন নয়। উইঘুরদের ওপর চীনের নিপীড়নের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ট্রিবিউনে। গত ২৪ আগস্ট 'সিস্টেমেটিক ইরেজার অব আইডেন্টিটি' শিরোনামে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য তিলক দেবাশের দীর্ঘ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। সেখানে তিনি লিখেছেন-

সম্প্রতি চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত ১১ মিলিয়ন উইঘুরের অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। উইঘুররা তুর্কি বংশোদ্ভূত, যাদের বেশিরভাগই মুসলিম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন তাদের পরিচয় মুখে ফেলার চেষ্টা করছে এবং তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বিশ্বাসের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে এবং তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনা হচ্ছে। সমন্বিতভাবে গৃহীত এসব পদক্ষেপ মানবাধিকারের লঙ্ঘন। হান চাইনিজ ও উইঘুরদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে ২০০৯ সালের পর থেকে উইঘুরদের ওপর অবরোধ আরোপ করা হয়। ওই সংঘর্ষে প্রায় ২০০ জন হান চাইনিজ প্রাণ হারান।

২০১৪ সালে জিনজিয়াংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের পর থেকে ক্র্যাকডাউন আরও তীব্র হয়। ২০১৭ সাল থেকে কর্তৃপক্ষ সেখানে ডিটেনশন ক্যাম্প পরিচালনা করছে। ক্যাম্পের নাম দেওয়া হয়েছে ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার। চীন সরকারের কিছু গোপন নথি হস্তগত করেছে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট। সেই নথিতে ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনা বিষয়ক কিছু পরিকল্পনা ও নির্দেশনা ছিল। নাৎসী আমলের কনসেন্ট্রশন ক্যাম্পের আদলে তৈরি এ ক্যাম্পে ২০১৭ সাল থেকে ১/২ মিলিয়ন উইঘুরকে বন্দী করা হয়েছে। ক্যাম্প থেকে ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের চিত্র। সেখানে উইঘুরদের 'আদর্শিক প্রশিক্ষণ' দেওয়া হয়। শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়।

ক্যানবেরা ভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, ২০১৭ সালের পর থেকে ৮০ হাজার উইঘুর বন্দীকে ২৭টি কারখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সেসব কারখানায় ৮৩টি বৈশ্বিক ব্রান্ডের পণ্য উৎপাদন করা হয়।

চীনের দাবি, ডিটেনশন ক্যাম্প করা হয়েছে ধর্মীয় উগ্রপন্থা ও সহিংসতা বন্ধের উদ্দেশ্যে। প্রমাণস্বরূপ চীন বলছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে জিনজিয়াংয়ে সন্ত্রাসী হামলা হয়নি। কিন্তু উইঘুরদের ওপর চীনের নিপীড়ন নিয়ে সারা বিশ্বে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তা শান্ত করতে চীন সমর্থ হয়নি।

 করোনা পরিস্থিতিতে মধ্যযুগীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন চীনের জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমরা। তাদের জোর করে আটকে ঐতিহ্যবাহী চীনা হারবাল ওষুধ খেতে বাধ্য করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি তাদেরকে দালানের ভেতরে দেয়ালের সঙ্গে হাতকড়া দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় অংশ হিসেবে কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের ঘরের অভ্যন্তরে থাকার নির্দেশ জারি ছিল। পোস্ট অনলাইনের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির রাজধানি উরুমকিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধকালীন অবস্থায় ছিল এর বাসিন্দারা। বিশেষ করে জুলাই মাসে পুরো চীন জুড়ে যখন করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ছিল।

শুক্রবার থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা লকডাউনে ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা ও কোয়ারেন্টিনে রাখার অভিযোগ এনে ব্যাপক সমালোচনা করেছে সরকারের বিরুদ্ধে।

বলা হচ্ছে, করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ার পরও তাদের ওপর এমন নির্যাতন করা হয়েছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এই শহরটিতে ৫৩১টির বেশি করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা নথিভুক্ত ছিল, পর পর আট দিনে কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

ইন্টরনেট ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করছে, ওই এলাকার বাসিন্দার ঘরের বাইরে বের হতে চাইলে শিকল দিয়ে তাদের ঘরের দেয়ালের সঙ্গে বেঁধে রাখা হচ্ছে।

একজন বলছেন, দুই মাস ধরে তাদের কোয়েরেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া করোনা চিকিৎসায় চীনের হারবাল উপায়ে তৈরি ওষুধ খেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

উরুমকিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করা এক ব্যক্তির আত্মীয় গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তাদের আত্মীয়র পরিবারকে প্রতিদিন ওষুধ খেতে দেয়া হচ্ছিল। তবে সেগুলো খেতে জোর করা হয়নি।

চীনা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাতে অনেক উইঘুর মুসলিমকে ডিটেনশন সেন্টারে আটক রেখেছে।

নি এম/

 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71