মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০১৭
মঙ্গলবার, ১০ই শ্রাবণ ১৪২৪
সর্বশেষ
 
 
কিউবার মুসলিম সমাজ
প্রকাশ: ১২:৫৯ am ২০-০৪-২০১৫ হালনাগাদ: ১২:৫৯ am ২০-০৪-২০১৫
 
 
 


বিখ্যাত ইতালীয় নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের অনেক আগে আমেরিকায় মুসলমান বসতির প্রমাণ পাওয়া যায়। ১১৭৮ খ্রিস্টাব্দে মুসলমান নাবিকরা আমেরিকার উপকূলবর্তী অঞ্চলে পৌঁছায় বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়। মুসলমান নাবিকদের আমেরিকা আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই ওই অঞ্চলে মুসলমান বসতি স্থাপিত হয়। ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দের ২১ অক্টোবর কলম্বাস আমেরিকা পৌঁছান। তিনি তার ডায়েরিতে ওই অভিযানের এবং আমেরিকা পৌঁছানোর এক বিবরণী লিপিবদ্ধ করেছেন। ওই বিবরণই তার আমেরিকা পৌঁছানোর আগেই মুসলমানদের সেখানে বসতি স্থাপনের পক্ষে বড় প্রমাণ। কলম্বাস তার ডায়েরিতে লিখেছেন, তিনি যখন আমেরিকা পৌঁছান তখন কুবা পর্বতের উচ্চ শিখরে একটি মসজিদ দেখতে পান। মুসলমানদের বসতি স্থাপনের ফলেই একটি অঞ্চলে মসজিদ নির্মাণের ঘটনা ঘটে। তাই কলম্বাসের ওই ঐতিহাসিক সাক্ষ্যই প্রমাণ করছে, ১১৭৮ খ্রিস্টাব্দে মুসলমান নাবিকদের আমেরিকা আবিষ্কারের পরবর্তী সময়ে আমেরিকা মহাদেশে মুসলমানদের বসতি স্থাপিত হয়েছিল। আর ওই মুসলমান বসতির বিকাশের ফলে সেখানে মসজিদ নির্মিত হয়েছিল, যা কলম্বাস আমেরিকায় পৌঁছে দেখেছিলেন।
আমেরিকায় মুসলমান বসতি স্থাপনের সময়কাল জানা গেলেও ওই মহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী কমিউনিস্ট রাষ্ট্র কিউবায় কখন প্রথম মুসলমানদের আগমন ঘটে সে বিষয়টি অস্পষ্ট। ঐতিহাসিকদের ধারণা, কুবার মতো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের আগেই ওই অঞ্চলে মুসলমানদের আগমন ঘটেছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে স্পেনের মতো নানা ঘটনা প্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে ওই অঞ্চল থেকে মুসলমানদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে পড়ে। বিংশ শতাব্দীতে পুনরায় আরব অভিবাসীদের আগমনের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটতে শুরু করে। বর্তমানে কিউবার জনসংখ্যার প্রায় ০.১ শতাংশ মুসলমান। কিউবার অন্যতম অঞ্চল পিলাইয়া ডি রোসারিও শহরের প্রায় ৪০ শতাংশ অধিবাসী মুসলমান। কিউবার স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যাও কম নয়। একটি জরিপে জানা যায়, স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। এক তথ্য মতে, কিউবায় মুসলমানদের সংখ্যা ৪ হাজার। তবে ২০০৯ সালে পিউ রিসার্স সেন্টারের জরিপ অনুসারে কিউবায় মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। ২০১২ সালে তা বেড়ে ১০ হাজার হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীদের ধর্মান্তরিত হওয়া এবং পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থেকে অভিবাসীদের আগমনই এ জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ১৯৭০-৮০ এর মধ্যবর্তী সময়ে কিউবায় ইসলামের বিকাশ দৃষ্টগোচর পর্যায়ে আসে। এখনও প্রতিদিন মুসলমান অভিবাসীদের কিউবায় আগমনের ফলে এবং ধর্মান্তরিতকরণের মাধ্যমে কিউবায় মুসলমানদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
তবে কিউবায় মুসলমানদের সংখ্যা বাড়লেও এখনও সেখানে একত্রে প্রার্থনার জন্য পূর্ণাঙ্গ মসজিদ স্থাপিত হয়নি। মসজিদ না থাকায় কিউবার মুসলমানরা প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাড়িতেই পড়তে বাধ্য হন। কখনও তারা উন্মুক্ত পার্কের ভেতরই কাতারবন্দি হয়ে জামাতে নামাজ আদায় করেন। কিউবার সরকার ও সাধারণ মানুষ মুসলমানদের ধর্মপালনে কোনো বাধার সৃৃষ্টি করে না। কিন্তু পার্কের পরিবেশ কোনোভাবেই নামাজ পড়ার উপযুক্ত নয়। ছোট উপকূলীয় শহর আলামারার এক পরিত্যক্ত খেলার মাঠে মুসলমানরা জুমার নামাজ পড়ার জন্য একত্রিত হন। হাভানার মুসলমানরা জুমার নামাজ আদায় করার জন্য ১৯৪০ সালে নির্মিত এক ধনী আরব অভিবাসীর ‘আরব হাউসে’ সমবেত হওয়ার সুযোগ পান। আন্দালুসীয় স্থাপত্যে নির্মিত আরব হাউস প্রধানত আরব জাদুঘর ও রেস্টুরেন্ট হওয়ায় শুক্রবার তিন ঘণ্টা তা মুসলমানদের নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিউবায় মসজিদ স্থাপন ও মুসলমানদের বিভিন্ন দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরা এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার অনুমতি চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সরকার মুসলমানদের সেই দাবি পূরণ করেছে। হাভানার শিল্পাঞ্চলের কাছে একটি মসজিদ স্থাপনের জন্য সৌদি আরব অর্থায়ন করেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তায়েপ এরদোগানও সম্প্রতি কিউবা সফরের সময় রাউল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে বৈঠকে কিউবায় একটি মসজিদ নির্মাণে অর্থায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
নামাজের জায়গা সঙ্কটের পাশাপাশি কিউবায় বসবাসকারী মুসলমানদের হালাল খাবার সংগ্রহ করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ইসলাম ধর্মে মদ ও শূকরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ হলেও কিউবায় এ দুইটি খাবার সবচেয়ে বেশি সহজলভ্য। ফলে মুসলমানদের অনেক সময় খাবার নিয়ে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। কিউবায় মুসলমানরা নিয়মিত নামাজ পড়ার পাশাপাশি কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই রমজান মাসের রোজা পালন করতে পারেন। তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ হজ করতে সৌদি আরবও গমন করতে পারেন, সরকার এক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না। বস্তুত কিউবার ইসলাম প্রসার ও মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে রাষ্ট্রীয় প্রতিবন্ধকতা যেমন নেই, তেমনি স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালনে নানাভাবে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। কিউবায় খ্রিস্টান ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যেও চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, যা ওই অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসারকে সহজ করেছে।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71