বুধবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭
বুধবার, ৫ই মাঘ ১৪২৩
সর্বশেষ
 
 
আমার বন্ধু স্বামী বিবেকানন্দ
প্রকাশ: ০২:১২ pm ১১-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:১২ pm ১১-০১-২০১৭
 
 
 


কলকাতা::  ছোটবেলা থেকেই স্বামী বিবেকানন্দ-কে আমার বেশ লাগতো। বাবা ‘ছোটদের বিবেকানন্দ’ বইটা কিনে দিয়েছিলেন, পড়তাম, পড়া হয়ে গেলে আবার মাঝে মাঝে এমনি-ই উল্টেপাল্টে দেখতাম। তখন ছোট্ট স্বামীজী আমার মতো ছেলেমানুষের চোখে একজন বিলে, যে গরিব দুঃখীকে মায়ের নতুন শাড়ী, জামাকাপড় ইত্যাদি বিলিয়ে দিচ্ছে।

তারপর ধীরে ধীরে স্বামীজী আমার কিশোর বেলার নায়ক। ত্যাগী সন্ন্যাসীর পোশাকে তাঁকে আমার বরাবর-ই রাজার মতো লাগতো। মনের প্রজাপতি পাখা মেলে উড়তো স্বামীজীর সান্নিধ্যে। কখনো তাঁকে বড়ো ভাই মনে হতো, কখনো বা বন্ধু। বন্ধু হিসেবে, মনে মনে তাঁর কাছে কম অভিমান করিনি। তাঁর অনেক আদর্শ-কেই তখন কিশোরবেলায় ঠিক হয়তো মেনে নিতে পারতাম না, কিন্তু মেনে নিতে না পারলেও তাঁকে ভালোবাসতে কখনো কোনো অসুবিধে হয়নি। তিনি হৃদয়ের রাজা হয়েই ছিলেন, আর আজও তাই-ই আছেন।

আসলে স্বামীজী আমাদের ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। তিনি যেন হাত তুলে আমাদের দিকে তাকিয়ে বলছেন: হে বৎস, যথার্থ ভালবাসা কখনও বিফল হয় না। আজই হউক, কালই হউক, শত শত যুগ পরেই হউক, সত্যের জয় হইবেই, প্রেমের জয় হইবেই। স্বামীজী কখনো পিতা, কখনো ভ্রাতৃ-প্রতিম তাঁর মধ্যে কোনো ভুল নেই, কিন্তু স্বামীজী আমার বন্ধু, আমি স্বামীজীর বন্ধু — এই অনুভূতিটা আমার কাছে দারুণ লাগে। কারণ যাঁরা আমাদের গুরু, তাঁরা আমাদের বন্ধুও বটে।

স্বামীজী বলছেন, ওঠো, জাগো। তিনিই আবার বলছেন: ভগবানে বিশ্বাস রাখো। কোন চালাকির প্রয়োজন নাই; চালাকি দ্বারা কিছুই হয় না। এটা কি যথার্থ বন্ধুর কথা নয়? স্বামীজীর কণ্ঠস্বর যেন আমরা সকলেই শুনতে পাই, যেন প্রতিধ্বনিত হয় আমাদের মনে, তিনি বলছেন, ‘ওঠো, জাগো।’

স্বামীজী বীর-সন্ন্যাসী, স্বামীজী যুবকদের পথপ্রদর্শক……এটা ঠিক, কিন্তু মাঝে মাঝে লিবার্টি নিয়ে আমরা ভাবি না কেন যে, স্বামীজী আমাদের বন্ধু, আর আমরাও তাঁর। এই কথা
ভাবতে ভাবতে আজ এখানেই আমার ব্লগটা শেষ করছি।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Migration
 
আরও খবর

 
 
 

News Room: news@eibela.com, info.eibela@gmail.com, Editor: editor@eibela.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71