মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
মঙ্গলবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
আমার জীবনের গল্প: যশোদা জীবন
প্রকাশ: ১১:৩৩ pm ২০-০৬-২০২০ হালনাগাদ: ১১:৩৩ pm ২০-০৬-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


সন্মানিত হওয়ার সাথে সাথে কিছু মানুষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং বিদেশের কিছু কিছু দর্শনীয় স্হান ভ্রমণ করাও যেন অসম্পূর্ণ জীবনে পরিপূর্ণতা আনতে কাজ শুরু করলাম। শুরু করলাম এই ভেবে যে, বিভিন্ন দেশের কৃষ্টি, কাল্চার, অর্থনীতি, জীবন যাত্রার মান, মানবতার মূল‍্যবোধ কতোটা ব‍্যবধান এটা জানা একটা জীবনের অংশের মধ্যেই পরে। এই জীবনের অংশই হতে পারে বিভিন্ন প্রকারের ডাইমেনশন। উদ্দেশ্য ছিলো ব‍্যবসা কিন্ত মনের ভিতরে কাজ করতো শুধু অজানাকে জানা, মাল্টিকালচারাল মানুষের সাথে ব‍্যবসায়িক সম্পর্ক স্হাপন করা। তথ‍্য প্রযুক্তির যুগে ব‍্যবসায়িক সম্পর্ক হতে লাগলো অতিদ্রুত। এই ব‍্যবসায়িক সম্পর্কের আদলেই পরিচয় হয়েছিল লন্ডনের ম্যানচেস্টারের একটি কোম্পানি ইনোটেক সিস্টেমস এর ম‍্যানেজিং ডিরেক্টর, মিস্টার পিটার এবং পরিচালক জন গ্রাহামের সাথে, এদের সাথে আমি অনেক ব‍্যবসা করেছি কিন্ত যাওয়া হয়নি কখনও। পিটারের পিরাপিরিতে রাজি হলাম লন্ডনে যাওয়ার, দেরি করলাম না লন্ডনের ভিসা নিতে, আগে কখনও ম্যানচেস্টার যাওয়া হয়নি, একটি অফিসিয়াল কাজে ডেবিট এসেছিল তাই তার সাথেই রওনা হলাম। ডেবিট ঐ ইনোটেক সিস্টেমস এ সিস্টেম ইন্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করে। ডেবিট এর সাথে পৌছালাম ম্যানচেস্টার, পিটার এবং জন গ্রাহাম আগেই রিসিভ করার জন‍্য ছিলো ম্যানচেস্টার বিমান বন্দরে, তাদের আন্তরিকতায় আমাকে মুগ্ধ করলো। দুদিন ছিলাম ওখানে পিটার যেন সারা ম্যানচেস্টার টি ঘুরে দেখালো। ম্যানচেস্টারের শৈল্পিক সৌন্দর্য আমাকে ভীষন ভাবে পুলকিত করলো। আসার দিন পিটার আমাকে প্রথম ক্লাসের ট্রেনে টিকেট কেটে দিলো। ম‍্যানস্টার থেকে এক ঘন্টা দশ মিনিটে সেন্ট্রাল লন্ডন। দ্রুতগামী ট্রেন, তাদের আপ‍্যায়ন অসাধারন, রাস্তার দুপাশে সবুজ ঘাসের সমারোহ, প্রাকৃতিক এক অপূর্ব নিদর্শন। ভাবতে ভাবতে পৌছে গেলাম সেন্ট্রাল লন্ডন, ওখানে অলি অপেক্ষা করছে আমাকে রিসিভ করার জন‍্য। ও অলি আমার বন্ধু আজাদ ও মুরাদের ছোট ভাই, আমাদের এলাকায় পুটিয়া গ্রামে ওদের বাড়ী। ‘বার এট ল’ পড়তে লন্ডনে গিয়েছিলো। অলি ব‍্যারিস্টারি পাশ করার পর লন্ডনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক। অলি যেহেতু আজাদ মুরাদের ছোট ভাই আমিও ওকে ছোট ভাই হিসাবেই দেখি। ওর আন্তরিকতায় আমাকে মুগ্ধ করলো। ওর বন্ধুদের সাথে পরিচয় করে দিলো দাদা হিসাবে। মনে হলো আমিই ওর আপন দাদা। ওর বন্ধুরা সুজন, আন্না, শামীম, পপি আরো অনেকে। আমি গেছি বলে অলি বন্ধুদের ডেকে পার্টিও দিলো। বন্ধুদের সংখ‍্যা ২০-২৫ জনের কম হবে না। আমি অনেকের নামও ভুলে গেছি। সবার আন্তরিকতায় আমি এতোটাই মুগ্ধ আর তা টের পেলাম যখন আমি চলে আসি এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এসেছিল ৬ টা গাড়ী, লোক ১৫ থেকে ১৮ জন, ইমিগ্রেশনের অফিসার বলে আপনাদের পেসেন্জার একজন অথচ এতো লোক আসছে তাকে ফেয়ারওয়েল দওয়ার জন‍্য যেনো ইমিগ্রেশন জাম বাদিয়ে দিয়েছেন। ওরা বিদেশে থেকে আন্তরিকতার এক দুর্লভ উদাহরণ দেখালো আমার প্রতি। বিদেশের মাটিতে আপন ভাই বোনদের চেয়ে বেশী আদর করে উরা- আর এটাই বাঙালি, এটাই আমাদের সংস্কৃতি। যারা বিদেশের মাটিতে থাকে দেশে থেকে কেউ গেলে বুঝা যায় তাদের আন্তরিকতার এক অপূর্ব সেতুবন্ধন। প্রবাসিরা দেশের অর্থনীতিতে যে ভূমিকা রাখে তাদের আমরা কতটুকুই বা মুল‍্যায়ন করতে পারি?ওদের আন্তরিকতায় আমি ঘুড়ে ফিরে একাধিক বার গিয়েছি লন্ডনে, কোনো বারই ভুলে নাই এয়ারপোর্ট এসে রিসিভ করতে বা ওয়েলকাম পার্টি দিতে অথবা বিদায়ে ফেয়ারওয়েল দিতে! আমার নিজের কাছেই খারাপ লাগে ওরা দেশে আসলে কতোটুকুই বা সময় আমরা দিতে পারি?

আমার ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দৌড়াতে হচ্ছে দেশ বিদেশে, ইউএনএফপি এর একটা কাজ পেয়েছিলাম ওটা প্রিন্টিং এর জন‍্য দিয়েছিলাম দিল্লির একটা কোম্পানিকে, ঔ কাজটি বাংলাদেশ ন‍্যাশন‍্যাল সেন্সাসের কাজ ছিলো, আনেকবার যেতে হয়েছিল দিল্লি। পরিচয় হয়েছিল এক ভদ্রলোকের সাথে, বাংলাদেশের প্রতি তার টান ছিলো ভীষন। আমার সাথে সেক্রেটারি মুসা সাহেব ও গিয়েছিল দিল্লিতে, উনি বললো চলো এক এক্স আর্মির বাসায় যাই যে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি ভীষন টান। মুসা ভাই নাম বললো একাত্তরের মহান বীর জেনারেল ড. ভিকে সিং আরো বললো বর্তমানে তিনি ভারতের বিজেপি সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আমি শুনে ভীষন খুশি হলাম, উনার সাথে আমার আগেই পরিচয় ছিল। জেনারেল ড. ভিকে সিং বাংলাদেশে এসেছিল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের আর্মি অফিসার হিসাবে। তার মুখে অনেক শুনেছি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের লক্ষ‍্য লক্ষ‍্য মানুষের মৃতদেহ রাস্তার পাশে পড়ে থাকার কথা। উনার তোলা স্হির চিত্র গুলো এখনো তার ড্রয়িং রুমে সজ্জিত আছে তাকে তাকে। সে কুমিল্লা থেকে ঢাকা পযর্ন্ত পায়ে হেটে এসেছিল আর তুলেছিল হাজার হাজার মৃত্যু দেহের ছবি, কোথাও বা কাক বসা আবার কোথাও পশুপাখির টানাটানি। তার বর্নণার সময় চোখ গুলো যেনো জলে টলমল করছিল আমার।

ঐসব ছবি লালচে হয়ে গেছে তবুও রেখে দিয়েছে অনেক যত্ন করে। সে বলে পৃথিবীতে স্বাধীনতার যুদ্ধে এতো লোক প্রান হারায় এ নজির বিরল। জেনারেল ভিকে সিং হিন্দি ভাষাভাষী লোক কিন্ত বাংলা বলতে পারে অনায়াসে। আমাকে বলে বাংলাদেশে একটা হলোকাস্ট মিউজিয়াম করো আর এই ছবি গুলো প্রদর্শন করো, ইতিহাস কথা বলবে। উনি হয়তো জানানে না- একথা কোনদিনই বাস্তবায়ন হবে না, কারন সরকারের কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমার নাই। এই কথাগুলোই হয়তো আমার লেখার মাঝে বলে যাওয়া হবে বাস্তবে কখনোই সম্ভব হবে না ঐ হলোকাষ্ট বানানোর। আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, নীতি নির্ধারকদের কাছে একটাই অনুরোধ, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসি তারা যদি এই হলোকাষ্ট মিউজিয়াম টি করেন। প্রত‍্যাশা এবং প্রাপ্তি কখনো মিলে আবার কখনওবা মিলে না। একাত্তরের মহান এই বীর জেনারেল ড. ভিকে সিং কে নিয়ে আরো কিছু তথ্য আমি দিতে চাই যা পত্রিকা অন্তর থেকে এবং কিছু বই থেকে আমি জেনেছি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের কথা আমরা প্রত্যেক বাঙালি জানি। বাঙালি জাতি অনাদিকাল ধরে তা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে যাবে। যারা বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে রণাঙ্গনে বীর বিক্রমে যুদ্ধ করেছেন এবং যাদের পুণ্য রক্তে বাংলাদেশের মাঠ-ঘাট, বন-বনানী, রক্তাত হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য এ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মিত্রবাহিনীর অগণিত বীর নারী-পুরুষ যোদ্ধা নিঃস্বার্থভাবে আত্মাহুতি দিয়েছেন, যারা বাঙালির ইতিহাসে চির অমর হয়ে আছেন।

২০১৭ সালের এপ্রিলে ভারতের দিলিস্নতে মানেকশ অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের সরকারপ্রধানদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ভারতীয় সাত পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। সেখানে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও আত্মত্যাগের কথা গভীরভাবে স্মরণ করা হয়। দি টাইমস অব ইন্ডিয়ার মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কমপক্ষে ১ হাজার ৬৬৮ জন অফিসার এবং জওয়ান জীবন দিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর বীর সদস্যরা বাংলাদেশের বিভিন্ন ফ্রন্টে, বনে-জঙ্গলে যুদ্ধ করে বুলেটের সামনে বুক পেতে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। এ দেশের অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার মতোই রণাঙ্গনে মিত্রবাহিনীর অনেক শহীদের লাশ শনাক্ত করা যায়নি। এ দেশের বহু যুদ্ধক্ষেত্রে, পথে-প্রান্তরে সেসব শহীদের লাশ এ মাটির সঙ্গে মিশে এ ভূমিকে আরও পুণ্যময় করে তুলেছে। সত্যিকার অর্থেই তারা ছিলেন আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। ওইসব মুক্তিযোদ্ধার জীবন উৎসর্গের ফলে আমাদের বিজয় অর্জন ত্বরান্বিত হয়েছিল।

১৯৭১ সালের মিত্রবাহিনীর সেই মহান বীরদের একজন জেনারেল ড. ভিকে সিং। যার বীরত্বগাথা শুনতে নয়াদিলিস্নর এপিজে আবদুল কালাম রোডস্থ তার বাসায় গিয়েছিলাম। তার সঙ্গে একই বাঙ্কারে কুমিলস্না ফ্রন্টে যুদ্ধ করেছেন মুসা সাদিক (বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব) যিনি আমাকে তার বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন। আমি যখন তার সামনে দাঁড়ালাম, সেই মুহূর্তে আমি গর্বিত বলে ভাবছিলাম। কারণ একাত্তরের রণাঙ্গনের মিত্রবাহিনীর একজন মহান বীরের সামনে আমি দাঁড়িয়ে। তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বললাম, ‘স্যার আপনাকে অভিনন্দনের মাধ্যমে আমি মিত্রবাহিনীর সব বীর যোদ্ধাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সেসব মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বপূর্ণ অবদানে বাংলাদেশ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মাত্র নয় মাসে স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছিল। জেনারেল ড. ভিকে সিং আনন্দচিত্তে হাসিমুখে ‘জয় বাংলা’ বলে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমিও সাগ্রহে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করলাম।’

একাত্তরের মহান বীর জেনারেল ড. ভিকে সিং তার সঙ্গে পরিচয় হয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে আমার জানার ব্যাপ্তি ঘটল। জানতে পারলাম পাশের দেশের ভাই-বন্ধুরা কীভাবে আমাদের মুক্তির জন্য নিঃস্বার্থভাবে লড়েছিল। জেনারেল ড. ভিকে সিং বাংলাদেশের একজন জীবিত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আরও বেশি আনন্দিত হলেন এজন্য যে, তিনি দেখলেন বাংলাদেশের মানুষ এবং নতুন প্রজন্ম এখনো তাকে স্মরণ করে। তিনি বলছিলেন বাংলাদেশের লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে ভারতের মিত্রবাহিনীর হাজার হাজার অফিসার ও জওয়ান সেদিন শহীদ হয়েছেন। সেদিন বাংলাদেশের পথে প্রান্তরে, জনপদে, পদ্মা-মেঘনার কূলে কূলে বাংলাদেশ ও ভারতের হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই একদেহে লীন হয়ে গিয়েছিল। আজ বিশ্ববাসী বাঙালি জাতিকে যেমন বীরের জাতির স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনি বাংলাদেশ সব ধর্মের পুণ্যময় মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিমুগ্ধ চিত্তে তার কথা শুনে তার প্রতি আমার সুগভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বললাম যে, ‘বাংলাদেশের রণাঙ্গনে আপনার বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের কথা আমরা বহু মুক্তিযোদ্ধার কাছে শুনেছি। আমরা ইতিহাস থেকে জেনেছি, কুমিলস্না রণাঙ্গনে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের তদানীন্তন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম সফরে এলে আপনার সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন হয়। সেখানে যুদ্ধরত মিত্রবাহিনীর অফিসার ও জওয়ানদের সঙ্গে করমর্দনের সময় সৈয়দ নজরুল ইসলাম আপনাকে প্রশ্ন করেছিলেন, 'How long you will fight ?' আপনি দৃঢ়চিত্তে বলেছিলেন, 'Sir, so long I am alive.' আপনার দৃঢ় এবং সাহসী উত্তর শুনে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিমোহিত হয়ে পড়েন এবং তিনি সেখানে যুদ্ধরত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বলেন যে, ‘বাংলাদেশে যেখানে কিছু বেইমান বাঙালি আমাদের মা-বোনদের ধরে পাক সেনাদের হাতে তুলে দিচ্ছে ও গণহত্যা চালাচ্ছে, সেখানে এই ভিনদেশি তরুণ বীর যোদ্ধাকে দেখ এবং সে কী কথা বলছে, শোনো। সে বলছে, ‘যতক্ষণ বেঁচে আছে ততক্ষণ সে বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করবে’।

ভিকে সিং যিনি পরবর্তীকালে ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান হয়েছিলেন এবং বর্তমানে তিনি ভারতের বিজেপি সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের রণাঙ্গনে মিত্রবাহিনীর মহান বীর যোদ্ধা জেনারেল ড. ভিকে সিংয়ের কথাগুলো মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় শুনে শিহরিত হয়ে উঠছিলাম। মনে মনে আফসোস করছিলাম এ মহান বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে আরও আগে কেন আমার সাক্ষাৎ হয়নি। তার মতো বিজ্ঞ ও প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের মর্মকথা শুনে এবং তার পরম স্নেহ-মমতায় ধন্য হয়ে যখন তার বাসা থেকে বেরিয়ে এলাম তখন মনে হলো তার পরশে আমি দেশপ্রেমের নতুন চেতনাসমৃদ্ধ এক মানুষ। জেনারেল ড. ভিকে সিং আমাদের বিদায়লগ্নে উভয়ের সঙ্গে কোলাকুলি করে ‘জয় বাংলা’ বলে হাত নাড়লেন। আমরাও সশ্রদ্ধচিত্তে ‘জয় বাংলা’ বলে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর মহান সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিদায় জানিয়ে চলে এলাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর অবদান এ দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে যে শুধু আমাদের মুক্তির জন্য নিঃস্বার্থভাবে তারা জীবন দিয়েছে। তারা বাংলাদেশে এসে যুদ্ধ করেছে আমাদের মুক্তির জন্য, তাদের কোনো স্বার্থের জন্য নয়। এর চেয়ে বড় স্বার্থত্যাগ এবং মহত্তর ঘটনা পৃথিবীতে আর হতে পারে না। আমাদের কাছে তো তাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। কিন্তু ভালোবাসা এবং সম্মানটুকু অবশ্যই তাদের প্রাপ্য। আমরা এবং নতুন প্রজন্ম তাদের সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি এবং তাদের ঋণের কথা যেন কখনো ভুলে না যাই। চলবে....

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71