শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০
শুক্রবার, ২৬শে আষাঢ় ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
আমার জীবনের গল্প: যশোদা জীবন
প্রকাশ: ১১:১০ pm ২৪-০৫-২০২০ হালনাগাদ: ১১:১০ pm ২৪-০৫-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


এখন আর চাকরি বাকরি নাই একটু মন দিয়ে পড়াশুনা করা যাবে। জুয়েলের কাছ থেকে নোট নিয়ে পড়াশুনা শুরু করলাম। টেবিলে পড়তে বসেছি বরাবরই রাত এগারোটার পরে কারন ঐ সময় আড্ডার আর কেউ থাকে না। জুয়েল, পপি, ওপেল, মুজিম, শামীম বরাবরই আমার চাইতে একটু পড়াশুনায় ভালো। আমি কোন দিনও খুব ভালো ছাত্র ছিলাম না। ক্লাসের প্রথম আমি কোন দিনই হতে পারিনি আর হবোই বা কিভাবে? দারিদ্রতা এবং চাকরির ব্যস্ততা আমাকে আকরে রেখেছিলো। বই এর পাতায় চোখ বুলানো ছাড়া আর কিছুই করিনি, যতটুকু নিজের ম্যামুরিতে ক‍্যাচ করে ততটুকুই আমি পড়তাম। তাই সর্বদাই আমি মিডিয়াম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম আর সে জন‍্যই সরকারি চাকরির জন‍্য চেষ্টাও করি নাই। পড়াশুনার প্রতি আমার অনুরাগ ছিলো বরাবরই তাইতো সবসময়ই মনে হতো ভবিষ্যতেও পড়াশুনা করতে হবে। জ্ঞান বিজ্ঞানের যুগে পড়াশুনার বিকল্প নাই। জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে। চিন্তা করতে করতে অনেকটা সময় চলে যেতো আমার। যা-হোক একটা পর্যায় পরীক্ষার সময় টাও চলে আসলো যথারীতি শেষ ও হয়ে গেলো। পরীক্ষা শেষে বন্ধুরা সবাই যে যার মতো বাড়িতে বা ঘুরতে চলে গেলো আর আমি চলছি ভাগ‍্য খোলার অন‍্যসনে। এদিকে ছোট ভাই সুদর্শন ও এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিয়ে ফেলছে, ওকেও ঢাকায় নিয়ে আসতে হবে, আস্তে আস্তে দুশ্চিন্তা যেন বেড়েই চলছে। দুশ্চিন্তা হতে চলছে এখন আমি কোথায় থাকবো? কি করবো? এই চিন্তায় যেন আমি মসগুল। সৃষ্টিকর্তা সব সময় পরীক্ষায় ফেলে আবার তিনিই উত্তীর্ণ হওয়ার রাস্তাও দেখিয়ে দেন তাই তো আলমগীর এবং এবাদ ভাই বাসা নেওয়ার জন‍্য চিন্তা করছে। আমিও যোগ দিলাম তাদের সাথে। আলমগীর আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, কাজী এবাদ ভাই রাজনীতি করেন, উনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। আমরা তিন জন মিলে ভূতের গলীতে একটি ফ্লাট ভারা নিলাম। আমাদের তিনজনেরই আর্থিক অবস্থা একই রকম। কাজী এবাদ ভাই একজন পরিপাটি মানুষ। তাই উনি এক রুমে আর আমি আর আলমগীর একরুমে থাকতাম। এবাদ ভাই সুন্দর করে রান্না করতে পারেন। তাই মাঝে মাঝে উনিই রান্না করতেন। আলমগীরও মাঝে মাঝে করতো, আমার এই রান্না করার অভ‍্যাসটা কখনোই করতে পারিনি। এটা আমার অনেক ব‍্যার্থতার মধ্যে একটা। আমি ভুলে যাওয়ার আগে বলে যেতে চাই, আমার বন্ধু বান্ধব স্ব স্ব স্হানে অনেক ভালো পজিশনে আছে আর এটাই আমার সৃষ্টিকর্তার কাছে কাম‍্য। কাজী এবাদ ভাই সম্প্রতি বাংলাদেশ হাইকোর্টের মহামান‍্য জজ হয়েছেন। আলমগীর ও হাইকোর্টে বড় একজন উকিল। তাদের সার্বিক সাফল‍্য সব সময় কামনা করি। যাহোক, ভুতের গলি বাসা থেকে আমি চাকরির জন‍্য চষ্টা করছি। অবশেষে আমার চাকরি হলো -ডেস্কটপ কম্পিউটার এন্ড কানেকশনস লিমিটেডে। মালিক বোরহান ভাই। আইটি জগতের একজন পুরাতন লোক। বাংলাদেশে ওনাকে সবাই চিনেন। উনার কম্পিউটারের ব্রান্ড ছিলো কমপ‍্যাক কম্পিউটার। আমেরিকান কোম্পানির প্রডাক্ট। যেহেতু আমার পূর্বের অভিজ্ঞতা ছিলো - তাই মার্কেটিং পেশাই বেছে নিলাম। ডেস্কটপের আমার কলিগ গুলো অনেক মাই ডিয়ার টাইপের মানুষ। সবুজ ভাই, অনিক ভাই, খোরশেদ ভাই, মাহবুব ভাই, মারুপ, জাকির, অনিতা, কামরুল, সিহাব আরো অনেকে যারা আমার কলিগ ছিলেন। সবার সাথে সম্পর্ক ছিলো একটা পরিবারের মতো। যেহেতু আমার কম্পিউটার মার্কটিং এর আগের অভিজ্ঞতা ছিলো তাই চট করে হাল ধরতে পেরেছিলাম ডেস্কটপের। ক্লাইন্ট গুলো ছিলো সফস্টিকেটেড। আলফা সার্ভারের মতো ক্লাস্টারিং সার্ভার সেবা টেলিকমে বিক্রি করতে আমার কোন অসুবিধা হয়নি। UNDP, Care Bangladesh, US Embassy, Australian Embassy, Neslay Bangladesh, National Board of Revenue যাতায়াত ছিলো আমার অনায়াসে। বিভিন্ন মিনিষ্ট্রির সাথে সম্পর্ক হয়েছিল সেই এক রকম। এই ভাবেই চলছে আমার দিন, দিনতো আর থেমে থাকে না। দিন তার নিজস্ব গতিতেই চলতে থাকে।

আমার ব‍্যস্ততার কারনে অনেক গুলো ঘটনা আমি বাইপাস করে গেছি আগেই, সেটা হলো অনেক আগেই আমার বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। আমার ছোট ভাই সুদর্শন কলেজ শেষ করেছে। আমার ছোট ভাই ও মাঝে মাঝে ঢাকায় এসে আমার কাছেই থাকে। ঢাকায় এসে কম্পিউটারের বেসিক কোর্স গুলো করছে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জন‍্য প্রস্ততি নিচ্ছিল সুদর্শন। আমার ছোট বোনটি নারায়ণগঞ্জে বিয়ে হয়েছে। মাঝে মাঝে আমার ছোট্ট ভাই নারায়ণগঞ্জে ও থাকে ছোট বোনের কাছে। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে সেইসাথে কম্পিউটার শেখার আগ্রহ হর ভীষন, তাই সময় কে নষ্ট না করে ঢাকায় এসে সময়কে কাজে লাগাচ্ছে কম্পিউটার কোর্স এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করে। কম্পিউটার যেন একটা খেলনা পুতুলের মতো বানিয়ে নিতো সুদর্শন। একবার সমস্ত কমপোনেন্ট খুলে ব‍্যাগে ভরে আবার সে জোরা তালি দিয়ে একটি পূর্নাঙ্গ কম্পিউটার বানিয়ে ফেলে, এক কথায় বলা যায় সে একজন পূর্নাঙ্গ হার্ডওয়ার ইন্জিনিয়ার নিজেকে পরিচিতি করে ফেলেছে। আমার ও নারায়ণগঞ্জ ছোট বোনের বাসায় যাওয়া হতো সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। মাঝে মাঝে আমার বন্ধু আলমগীর ও বাবুল কেও নিয়ে যেতাম সময় পেলে। সুদর্শন ঢাকায় এসে বাড়ির সাথে যোগাযোগ সহ আমাদের পরিবার-পরিজন আত্মীয়-স্বজন যে যেখানে আছে সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত এটা যেন ওর একটা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ছাত্র জীবন থেকেও দায়িত্ব জ্ঞান বোধ এতটাই ভাল তাই সুদর্শন'কে নিয়ে আমরা সবাই অনেক স্বপ্ন দেখতাম। জীবনের চরম বাস্তবতা একটা মানুষকে কতটা অসহায় করে দিতে পারে, তা হয়তো বাস্তবতা দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। দেখে শুনে পড়ে বাস্তবতার উপলব্ধি কোনদিনও কারো জীবনে আসে না, কারণ বাস্তবতা নিজের রক্তের সাথে মিশে গিয়ে সুখ-দুঃখ, ভালোলাগা-মন্দলাগা, সফলতা, ব্যর্থতা, পাওয়া, না-পাওয়া এমন হাজারো অভিজ্ঞতা মানুষকে শিখিয়ে দিয়ে যায়। বাস্তবতা সেতো শুধুই বাস্তবতা। যাকে কেউ কোনদিন অস্বীকার করতে পারে নাই, আর আমি...। চলবে....

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71