শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭
শুক্রবার, ১০ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪
 
 
অধ্যক্ষ সচিন কুমার রায়কে শাসালেন ছাত্রলীগ নেতা
প্রকাশ: ১১:৫১ pm ১৯-০৩-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:২৫ am ২০-০৩-২০১৭
 
 
 


বরিশাল : বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ সচিন কুমার রায়ের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন ওই কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল ইসলাম বাপ্পি।

এ সময় ছাত্রনেতারা অধ্যক্ষকে শাসান ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে।

অধ্যক্ষের দাবি, পরিকল্পিতভাবে রুমে ঢুকে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালান ছাত্রলীগের নেতারা। তবে ছাত্রলীগের দাবি, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালন নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। বের করে দেওয়ার চেষ্টার কথা সত্য নয়।

সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে শিক্ষক মিলনায়তনে অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান শুরু হয়। গত ছয় মাসে যেসব শিক্ষার্থী এক দিনও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হননি, তাঁদের অভিভাবকদের নিয়ে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ কলেজে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে এ নিয়ে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে অধ্যক্ষের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সুযোগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম বাপ্পি অভিভাবকদের সঙ্গে এক জোট হয়ে বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হন।

পরে দুপুর ১২টার দিকে অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে তিনি অধ্যক্ষকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, রেজাউল ইসলামের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলেও কলেজের সব ব্যাপারে তিনি খবরদারি করেন। তাঁকে না জানিয়ে কোনো অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয় না। এমনকি অনুষ্ঠানে তাঁর জন্য একটা বরাদ্দ রাখতে হয়।

তাঁর জন্য বরাদ্দ না থাকলেই তিনি ক্ষিপ্ত হন। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি হিসেবে আগেই পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু রেজাউল ইসলাম তা না জানার কারণেই অধ্যক্ষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।এ ব্যাপারে রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছাত্রত্ব নেই-এটা ঠিক। কিন্তু কোনো কমিটি না হওয়ায় কলেজের খোঁজখবর রাখতেই হয়। সব অনুষ্ঠানে নয়, দলীয় কর্মসূচিতে খবরদারি করি।’

কলেজের অধ্যক্ষ সচিন কুমার রায় বলেন, ‘যেসব ছাত্র ভর্তি হওয়ার পর এক দিনও ক্লাসে উপস্থিত হয়নি, তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে এক অভিভাবক হট্টগোল করেন।তিনি আমার সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল ইসলামও তাঁর সঙ্গে যোগ দেন।

দুপুর ১২টায় পরিকল্পিতভাবে আমার কক্ষে এসে আমার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে আমার কক্ষ থেকে তাঁরা আমাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।’

এ ব্যাপারে রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠকে এক অভিভাবকের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় কথা বলায় আমরা প্রতিবাদ করেছি। পরে অধ্যক্ষ সে ব্যাপারে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন।

ওই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।আমাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কর্মসূচি নিয়ে কথা হয়েছে। কোনোমতে অনুষ্ঠান করতে চাওয়ায় তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে।

আমি বলেছি অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে যদি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ভালোভাবে পালন না করেন, তাহলে তো চেয়ারে থাকার অধিকার নেই।’

এইবেলাডটকম/এফএআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71